দূর্গা পূজো, লক্ষ্মী পূজো শেষ হয়েছে।ইতিমধ্যে সারা দেশবাসি দীপাবলি আরাধনা মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিক সেই সময় উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘী ব্লকের সিঙ্গারদহ গ্রামের মানুষ দূর্গা পূজোয় মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে সেই দূর্গা পূজো।
কথিত আছে, দূর্গা পূজোর দশমীর দিনে এই সিঙ্গারদহ গ্রামের কুম্ভকার পরিবারের গৃহবধূ সোনামতি প্রতিবেশীদের সঙ্গে দশমীর মেলা দেখতে বাইরে হবার কথা ছিল। সোনামতি দেবী দীর্ঘক্ষন বাড়ি থেকে বাইরে না আসায় প্রতিবেশীরা সোনামতির বাড়িতে গিয়ে দেখেন মা দূর্গা তার বাড়িতে এসেছেন। বাড়ির বাইরে গিয়ে দশমীর মেলায় অংশ নিতে হবে। আগামী মঙ্গলবারই এলাকায় দূর্গা পূজো করে দশমীর মেলায় অংশ নেবার জন্য সোনামতি দেবীকে জানিয়ে দেয়। কয়েক শ বছর আগেকার কথা। এই সিঙ্গারদহ গ্রাম তখন ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ।যোগাযোগ ব্যবস্থাও তেমন ছিল না। লণ্ঠনের আলোয় দশমীর প্রথম মঙ্গলবারই সেখানে দূর্গা পূজো হয়। শনিবার মা দূর্গার বির্ষজন হয়। দিন পাল্টালেও পূজোর দিনক্ষন পাল্টায় নি। এখন সেই গ্রাম বিদ্যুৎ পৌছেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে।দূরদূরান্তের দোকানিরা এই মেলায় অংশ নিচ্ছেন। দূর্গা পূজো জৌলুস ফিরে এসেছে। লাখ লাখ মানুষ এই পূজো দেখতে ভিড় জমিয়েছে। সিঙ্গারদহ গ্রাম এখন দূর্গা পূজোয় মেতে উঠেছে। পূজোয় মেলায় দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসে পড়েছে। এছাড়াও মিনোদনের জন্য নাগরদোলনা সহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের সামগ্রী পৌছে গেছে। আজ বেলা তিনটায় পূজো অনুষ্ঠিত হল।দূরদূরান্তের ভক্তরা এই পূজোয় অংশ নিয়েছেন। একদিনের পূজো হলেও প্রতিমা থাকবে শনিবার পর্যন্ত। শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় মন্দিরে পাশের পুকুরে সোনামতি দেবীর দান করা জমিতে প্রতিমা বির্ষজন হবে। সিঙ্গারদহ গ্রামের মানুষ প্রকৃত দূর্গা পূজোতে তেমন আনন্দ না করলেও এই দূর্গাপূজোয় তাদের কাছে আসল দূর্গা পূজো।
কিভাবে এই পূজো শুরু হল সে সম্পর্কে জানাচ্ছেন পূজো উদ্যোক্তারা। তারা কি জানেন শোনাব তাদের বক্তব্য
আজ থেকে কয়েক শ বছর আগে গ্রামের মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় শহরে পূজো দেখতে আসতে পারতেন না। জমিদার বাড়ির লোকেরা এধরনের কথা বলে এলাকায় দূর্গা পূজো করতেন। মানুষ সেই ইতিহাসকে আকড়ে ধরে আজও বেঁচে আ
ছেন।


কোন মন্তব্য নেই: