About

স্বামী রাজমিস্ত্রি, সকালে উঠে চা করে ঘর সামলে সোজা নবান্নে

 স্বামী রাজমিস্ত্রি, সকালে উঠে চা করে ঘর সামলে সোজা নবান্নে

চমকে দেওয়া জীবনযাপন বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরির

নিজস্ব সংবাদদাতা:

রাজনীতির মঞ্চে তিনি এখন পরিচিত মুখ। টানা দ্বিতীয়বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতা কিংবা রাজনৈতিক সাফল্য তাঁর জীবনযাত্রাকে একটুও বদলাতে পারেনি। এখনও ভোরবেলা উঠে পরিবারের জন্য চা বানান, সংসারের কাজ সামলান, তারপর রওনা দেন রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে। কথা হচ্ছে Chandana Bauri-র।

ভোরের শুরু রান্নাঘরেই

বাঁকুড়ার শালতোড়ার এক সাধারণ গ্রামবাংলার বাড়িতে দিনের শুরু হয় খুব ভোরে। রান্নাঘরে নিজের হাতে চা বানান চন্দনা বাউরি। পরিবারের সদস্যদের চা দিয়ে ঘরের ছোটখাটো কাজ সেরে প্রস্তুতি নেন কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার। কারণ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে হবে বিজেপি বিধায়কদের।

রাজমিস্ত্রীর জোগাড় থেকে বিধায়ক

আজ তিনি দুইবারের বিধায়ক। কিন্তু একসময় স্বামী Shraban Bauri-র সঙ্গে রাজমিস্ত্রীর জোগাড়ের কাজ করতেন চন্দনা। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেই কেটেছে তাঁর জীবন।
বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের কেলাই গ্রামের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা চন্দনা ছোটবেলায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে চারপাশের অন্যায়, অত্যাচার এবং সাধারণ মানুষের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে রাজনীতির পথে নিয়ে আসে।


সংগ্রাম থেকেই রাজনৈতিক উত্থান

বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ধীরে ধীরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ২০২১ সালে শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করে বিজেপি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অর্থবল ছাড়াই ভোটে নেমে জয় ছিনিয়ে আনেন তিনি।
২০২৬ সালের নির্বাচনেও তাঁর উপর আস্থা রাখে দল। সেই আস্থার মর্যাদা রেখে আরও বড় ব্যবধানে জয়ী হন চন্দনা বাউরি।

বদলায়নি সাধারণ জীবনযাপন

দুইবারের বিধায়ক হয়েও আজও মাটির কাছাকাছি রয়েছেন তিনি। নিজের হাতে সংসারের কাজ করেন। গ্রামের মানুষ এখনও সহজেই তাঁর বাড়িতে ঢুকে নিজেদের সমস্যা জানান।
এমনকি নিজের বাড়িও আলাদা করে তৈরি করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়িটিও স্বামী-স্ত্রী মিলে নিজেদের হাতে তৈরি করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
চন্দনা বাউরির কথায়,
“তৃণমূলের অত্যাচার দেখেই রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি চাই আমাকে দেখে আরও মহিলারা সাহস পান।”

মানুষের কাছেই রাজনীতি

কখনও সাইকেল চেপে, কখনও হেঁটে, আবার কখনও সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে প্রচার করেছেন তিনি। রাজনীতি তাঁর কাছে ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং বেঁচে থাকার সংগ্রামেরই অংশ।

উন্নয়নের স্বপ্ন

নির্বাচনে জয়ের পর এখন শালতোড়ার উন্নয়নই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দামোদর নদের উপর পাকা সেতু নির্মাণ, প্রত্যেক বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং বন্ধ হয়ে থাকা পাথর শিল্পকে ফের চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
এছাড়াও এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর দিকেও জোর দিতে চান তিনি। স্থানীয় স্তরে কাজের সুযোগ তৈরি করে মানুষকে ভিনরাজ্যে কাজের জন্য যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে চান বিজেপি বিধায়ক।

সংগ্রাম এখনও শেষ নয়

রাজমিস্ত্রীর জোগাড়ের কাজ করা সেই সাধারণ গ্রামের মেয়েটি আজ বিধায়ক হলেও তাঁর বিশ্বাস এখনও একই জায়গায়—
“মানুষ পাশে থাকলে অসম্ভব বলে কিছু হয় না।”

কোন মন্তব্য নেই:

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();
Blogger দ্বারা পরিচালিত.