রসাখোয়া টাইমস নিউজ
তৃণমূলের ‘অবৈধ’ পার্টি অফিস দখল করল বিজেপি: প্রশ্নের মুখে আইনের শাসন
সুমন পাত্র, পশ্চিম মেদিনীপুর :- ছিল তৃণমূলের ‘অবৈধ’ পার্টি অফিস, দখল বদল হয়ে তা এখন বিজেপির দখলে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ক্ষমতার হাতবদল হলেও বেআইনি নির্মাণ কি বৈধ হয়ে গেল? সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক মহলের আলোচনা এখন এই প্রশ্নটিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।
সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের কড়সা গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট তাড়া এলাকার একটি রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে পাওয়া যায় ভুরিভুরি জব কার্ড ভোটার কার্ড। তারপরেই ওই রাজনৈতিক কার্যালয়টি খবরের শিরোনামে আসে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় ওই কার্যালয়টি বিতর্কিতভাবে গড়ে উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায়।
স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের দাবি, কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সরকারি বা বিতর্কিত জমিতে গড়ে তুলেছিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তাঁরা ক্ষমতায় এলে বা সুযোগ পেলে এই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো ছবি। দখলমুক্ত করার নামে ধুমধাম করে দলীয় পতাকা লাগিয়ে সেই কার্যালয়টি নিজেদের দখলে নেয় বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের এই পদক্ষেপের পরেই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যা তৃণমূলের আমলে ‘অবৈধ’ ছিল, তা বিজেপির দখলে আসামাত্রই কীভাবে ‘বৈধ’ হয়ে গেল? উচ্ছেদের ও ভাঙার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও কেন সেই বেআইনি পরিকাঠামোকেই ব্যবহার করছে বিজেপি?
তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, বিজেপি শুধু কুৎসা করতেই জানে। যদি নির্মাণটি বেআইনিই হতো, তবে তা ভেঙে ফেলা হলো না কেন? আসলে বিজেপি নিজেরা কিছু তৈরি করতে না পেরে অন্যের তৈরি করা অফিস দখল করছে। অন্যদিকে, অস্বস্তিতে পড়া স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আপাতত দলীয় কাজের সুবিধার্থে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে আইনের পরিপন্থী কোনো কাজ তাঁরা করবেন না।
সব মিলিয়ে, ভাঙার প্রতিশ্রুতির বদলে দখলের এই রাজনীতিতে এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে বিজেপির স্বচ্ছতার দাবি। সাধারণ নাগরিকরা মনে করছেন, দল বদলালেও বেআইনিকে আঁকড়ে ধরার রাজনৈতিক সংস্কৃতিটা অপরিবর্তিতই রয়ে গেল।

কোন মন্তব্য নেই: