About

সব জল্পনার অবসান: পদত্যাগ করলেন মেয়র ববি হাকিম, তোলপাড় তৃণমূলে

                রসাখোয়া টাইমস নিউজ 

 সব জল্পনার অবসান: পদত্যাগ করলেন মেয়র ববি হাকিম, তোলপাড় তৃণমূলে


 রাজ্যের রাজনীতিতে পালাবদল। কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র টালমাটাল পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিম



 গতকাল CID ববি হাকিমের বাড়িতে গিয়েছিল সই কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। এখন রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, কেন দিদির হাত ছাড়ছেন এতবছরের আস্থাভাজন ফিরহাদ হাকিম?


তিনি কি শুধুই দায়িত্ব ছাড়ছেন না কি নিজেকে বাঁচাতে দল, দিদি সবকিছু থেকেই কিনি দিরত্ব ব়ায় রাখতে চাইছেন? এরপর কি তিনি তৃণমূলও ছাড়বেন?


আরও প্রশ্ন উঠছে, তিনি ৪ মে রেজাল্ট বেরনের আগে কেন পদত্যাগ করেননি? তাহলে কি তৃণমূলের কেউই আশা করেননি এই ভরাডুবি?


৩ জুন ২০২৬ বিকেলে দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই খবর প্রকাশ্যে আসে প্রথমে। আর এরপরেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


দলীয় সূত্রে খবর, ববি হাকিম নিজেই মেয়রের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কাছে। অনুমতি চেয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তথা দলীয় নেত্রী তাঁর সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ইস্তফা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।


বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, এই বৈঠকে ববি হাকিমের ইস্তফার বিষয়টি গৃহীত (Accepted) হয়েছে। ববি হাকিমের এই আকস্মিক ইস্তফার পর কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব কে সামলাবেন, তা নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। জানা গেছে, নতুন কোনো মেয়রের নাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এখন থেকে সম্পূর্ণ পুরসভা যৌথভাবে পরিচালনা করবেন পুর কমিশনার (Municipal Commissioner)।


গত বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যের প্রায় সবকটি পুরসভাতেই পরিস্থিতি অত্যন্ত ডামাডোল হয়ে উঠেছিল। একের পর এক পুর বোর্ড ভেঙে পড়ার কারণে পুর প্রশাসন কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছিল। ব্যতিক্রম ছিল না কলকাতা পুরসভাও। কলকাতার মেয়র তথা তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বারবার প্রশ্ন উঠছিল। সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফিরহাদ হাকিমের এই পদত্যাগ দলের ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করল।


রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদত্যাগ কেবল একটি প্রশাসনিক পদের বিলুপ্তি নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভাঙনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার সাথে সাথেই দলের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে এবং দল আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।


দলের এই নজিরবিহীন ভাঙনের ধাক্কায় সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হয়েছে তৃণমূলের সমস্ত গণসংগঠনগুলির সবকটি পদ। যুব, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠন থেকে শুরু করে দলের সমস্ত স্তরের কমিটি ও পদাধিকারীদের পদ এখন অস্তিত্বহীন। এই আকস্মিক ও চরম রাজনৈতিক বিপর্যয়ের জেরে রাজ্যের ক্ষমতা অলিন্দে ঘাসফুল শিবিরের ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল কীভাবে এক লহমায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা রাজ্য রাজনীতিতে।

কোন মন্তব্য নেই:

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();
Blogger দ্বারা পরিচালিত.