যাঁরা যেতে চান, যেতে দিন! দলত্যাগীদের 'পাপী' ও 'ভীতু' বলে তোপ মমতার
রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে যখন ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বুধবার কালীঘাটের বৈঠকে এক কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবনির্বাচিত বিধায়কদের সামনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই কঠিন সময়ে যাঁরা দল ছেড়ে যেতে চাইছেন, তাঁদের আটকানোর কোনও প্রয়োজন নেই।
এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, "এখন যাঁরা দল ছেড়ে যেতে চায়, তাঁদের যেতে দিন। বুঝতে হবে, এতদিন এঁরা কোনও না কোনও পাপ বা অন্যায় করেছে। এখন ভয়ে দল ছাড়তে চাইছে।" তৃণমূল নেত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন যে, যাঁরা এখন বিজেপির দিকে পা বাড়াচ্ছেন, তাঁরা আসলে নিজেদের পুরনো কুকীর্তি ঢাকতে বা তদন্তের হাত থেকে বাঁচতেই গেরুয়া শিবিরের আশ্রয় নিতে চাইছেন। অর্থাৎ, দলত্যাগীদের তিনি 'রাজনৈতিক সুবিধাবাদী' এবং 'অন্যায়কারী' হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন।
শৃঙ্খলার পাঠ ও কড়া হুঁশিয়ারি
পরাজয়ের পর দলের অনেক নেতাই যখন প্রকাশ্যে বেসুরো গাইছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যেও এদিন কড়া বার্তা দিয়েছেন মমতা। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, দলবিরোধী কোনও কথা বা কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বার্তার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের বাকি কর্মীদের এবং বিধায়কদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি একতা বজায় রাখার শেষ চেষ্টা করছেন।
বিশ্লেষণ: সংগঠন ধরে রাখার রণকৌশল
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব সুকৌশলে দলত্যাগীদের ওপর নৈতিক চাপ তৈরি করতে চাইছেন। 'পাপী' বা 'ভীতু' তকমা দিয়ে তিনি একদিকে যেমন কর্মীদের মনে দলত্যাগীদের প্রতি ঘৃণা তৈরি করতে চাইছেন, তেমনই অন্যদিক থেকে কর্মীদের এই বার্তাও দিচ্ছেন যে, যাঁরা দলে থেকে যাচ্ছেন তাঁরাই প্রকৃত 'লড়াকু' ও 'নিষ্কলঙ্ক'। নির্বাচনের এই বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে দলের ভাঙন রোধে তাঁর এই 'আগ্রাসী মেজাজ' কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।

কোন মন্তব্য নেই: