বাংলায় আমরাই বিরোধী!' শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হতেই বিস্ফোরক হুমায়ুন
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। (Humayun Kabir)বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণার পরই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) ...
হুমায়ুন কবির বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী দুটি আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। তাঁকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। সেই আসনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উপনির্বাচন হওয়া উচিত। আমরা বিরোধী দলে বসব। জোটের কোনো প্রয়োজন নেই। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতেছে।" তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস' স্লোগান অনুসরণ করে যদি কাজ হয়, তাহলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।
কিন্তু জোটের বিষয়ে তিনি একেবারে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।হুমায়ুন কবিরের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে। এজেউপি চেয়ারম্যান অখিলেশ যাদবের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, "দু'মাস ধরে নির্বাচনী প্রচার চলার সময় অখিলেশ যাদব কোথায় ছিলেন? তখন তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এসে সমর্থন জানাতে পারতেন।
এখন হেরে যাওয়ার পর বৈঠক করে কী লাভ?" এছাড়া তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীর সম্পর্ক নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। হুমায়ুন কবিরের ভাষায়, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদিন সকালে রাহুল গান্ধীর বাড়িতে চা খেতে যান। তাহলে রাহুল গান্ধী মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী দিলেন কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মিথ্যাবাদী।" তাঁর এই মন্তব্য তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টি দু'পক্ষকেই অস্বস্তিতে ফেলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রিত্বের ঘোষণার পর ছোট ছোট দলগুলো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। হুমায়ুন কবিরের দল এজেউপি সাম্প্রতিক নির্বাচনে কিছু আসনে লড়াই করলেও বড় সাফল্য পায়নি। তবে তিনি বিরোধী আসনে বসে সরকারের উপর নজরদারি রাখার কথা বলে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে এই ধরনের বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। অনেকে বলছেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হলে বিরোধী শিবির আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে। হুমায়ুন কবিরের মতো নেতারা যদি সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও উন্নয়নের ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতারা এখনও হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য নিয়ে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেননি। দলের একাধিক নেতা বলছেন, নতুন সরকার গঠনের পর সবাইকে নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করা হবে। তবে বিরোধী দল হিসেবে যারা থাকবেন, তাদেরও গণতান্ত্রিকভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই: