মামার বাড়িতে ডাকাতি ও খুন, ফাঁসির আদেশ ভাগ্নের
আফতাব আলম। মামার বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ির প্রত্যন্ত গ্রাম আংরাভাসায়। আফতাব ছোটবেলা থেকে মামার বাড়িতেই মানুষ। মামা ইনসিওরেন্স এজেন্ট, অবস্থাপন্ন। টাকার লোভে সেই মামার বাড়িতেই ডাকাতির প্ল্যান করেছিল আফতাব। সঙ্গী হয়েছিল আরও পাঁচজন, যারা প্রত্যেকেই নাবালক, প্রত্যেকেই দিল্লির বাসিন্দা। এদের মগজধোলাই করে ধূপগুড়ি নিয়ে এসেছিল আফতাব। সবাই মিলে আশ্রয় নিয়েছিল একটি হোটেলে। প্ল্যানমাফিক গত বছরের ২৮ জুলাই গভীর রাতে আফতাব এবং তার পাঁচ সঙ্গী হানা দেয় মামার বাড়িতে। প্রতিরোধের চেষ্টা করলে কুপিয়ে খুন করে মামা মেহবুব আলমকে, গুরুতরভাবে আহত করে মামীকে। তারপর টাকাপয়সা নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা।
কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হইচই শুনে গ্রামবাসীরা খবর দেন ধূপগুড়ি থানায়। সেই রাতেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে আফতাব ও তার সঙ্গীরা। মামলার তদন্তভার নেন সাব-ইন্সপেক্টর বিনয় যাদব। আংরাভাসা থেকে দিল্লি, দিনরাত এক করে নানা জায়গায় ছুটে বেড়িয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেন বিনয়। জমা করেন চার্জশিট।
রায় বেরিয়েছে মামলার। বিচার মিলেছে ঘটনার চোদ্দ মাসের মধ্যেই।ফাঁসির আদেশ হয়েছে আফতাব আলমের। মৃতের পরিবারের জন্য ছয় লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বাকি পাঁচজনের বিচার চলছে নাবালকদের জন্য নির্দিষ্ট কোর্টে। অপরাধটা যে তারা জেনেবুঝেই করেছে, সেটা প্রমাণ হয়েছে Psychometric Assessment-এ। শাস্তি তারাও পাবে খুব শীঘ্রই, আমরা আশাবাদী।
ঘটনার এবং তদন্তের বিবরণ থাকল সঙ্গের ভিডিওটিতে, জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার উমেশ খন্ডবহালে
র মুখে।

কোন মন্তব্য নেই: