“বুঝেছিলাম একদিন ও পারবেই”
রসাখোয়া টাইমস নিউজ
মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতে চলেছে ছেলে, আবেগঘন স্মৃতিচারণ শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারীর
নিজস্ব সংবাদদাতা:
বাংলার হবু মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-কে রাজনীতির ময়দানে অনেকেই চেনেন ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ নেতা হিসেবে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও পরিবারের কাছে তাঁর রয়েছে একেবারে অন্য এক পরিচয়। মুখ্যমন্ত্রীর শপথের আগেই ছেলে শুভেন্দুকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করলেন তাঁর বাবা Sisir Adhikari।
“আমার আদরের বুড়ি”
ছেলের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে শিশির অধিকারী বলেন,
“আমার মেয়ে নেই। চার ছেলে। শুভেন্দু মেজো। তাই ছেলে হলেও শুভেন্দুকে ভালোবেসে আমি ‘বুড়ি’ বলে ডাকি। বাড়ির সকলে ও বন্ধুদের কাছে ও ‘বুবাই’ নামেই পরিচিত। তবে আমার কাছে সে আদরের বুড়ি।”
ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্বের গুণ
শুভেন্দুর ছোটবেলার স্মৃতি তুলে ধরে শিশির অধিকারী বলেন,
“ছোট থেকেই ওর মধ্যে অসাধারণ নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ছিল। খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে। নিজে থেকে কোনও ঝামেলায় জড়াত না। তবে অন্যায় হলে তার মোকাবিলা করতে জানত।”
তাঁর কথায়, রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতন খুব কাছ থেকে দেখেই ধীরে ধীরে একজন দক্ষ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন শুভেন্দু।
“কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামে না”
ছেলের কর্মক্ষমতা এবং সংগঠক হিসেবে দক্ষতার প্রশংসা করে শিশির অধিকারী বলেন,
“আমার চোখে ও অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক। কোনও কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামে না। রাজনৈতিক কাজে ও সবসময় ছুটে বেড়ায়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা ওর ছোটবেলা থেকেই ছিল।”
ছাত্র রাজনীতি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে
উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকেই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন শুভেন্দু অধিকারী। ধাপে ধাপে কাউন্সিলর, বিধায়ক, সাংসদ, রাজ্যের মন্ত্রী এবং একাধিক সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
আজ সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরের পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে চলেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের এই রাজনৈতিক নেতা।
“মানুষ চিনতে ওর জুড়ি নেই”
ছেলের আর একটি বিশেষ গুণের কথাও তুলে ধরেন শিশির অধিকারী। তাঁর দাবি,
“কারও সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললেই ও বুঝে যায় সেই মানুষ কেমন। আমার কাছে বহু মানুষ দেখা করতে আসতেন। তাঁদের কথাবার্তা ও ব্যবহার দেখে ছোটবেলা থেকেই বুড়ি আমাকে বলে দিত লোকটা কেমন।”
তিনি আরও বলেন,
“শুধু মানুষ চেনাই নয়, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও ওর দক্ষতা আলাদা করে চোখে পড়ে।”
আবেগঘন মুহূর্তে অধিকারী পরিবার
রাজ্যের প্রশাসনিক সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের আগে পরিবারের আবেগও যেন ছুঁয়ে গেল সাধারণ মানুষকে।
একজন বাবার চোখে তাঁর ছেলের সাফল্যের গল্প এখন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসেরও অংশ।

কোন মন্তব্য নেই: